শামের ইতিহাস, হাদিসের ভাষ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোর্স
প্রাচীন লেভান্ট বলতে বোঝানো হতো দক্ষিন পশ্চিম এশিয়ার বিস্তৃত এলাকাকে। টরাস পর্বতমালা থেকে সিনাই মরুভূমি ও হিজাজ পর্যন্ত এই বিশাল ভূখণ্ডের আওতায় ছিলো সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও ফিলিস্তিন। সাথে আনাতোলিয়ারও কিছু অংশ। এই অঞ্চল এতই প্রাচীন যে, এখানে প্রস্তর, লৌহ ও তাম্র যুগ পর্যন্ত গত হয়েছে। দীর্ঘ সময় রোমানদের শাসনের পর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে শুরু হয় লেভান্টমুখী অভিযান। মুতা ও তাবুকের পর এই অভিযান টেনে নিয়ে যান প্রথম খলিফায়ে রাশিদ সিদ্দিকে আকবর রাদ্বি.। এই বিজয় পূর্ণতা পায় দ্বিতীয় খলিফায়ে রাশিদ ফারুকে আজম রাদ্বি. এর যুগে। লেভান্ট হয়ে ওঠে – বিলাদুশ শাম।
মুসলমানদের শাম নবীজির ভাষায়—পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ভূমি। হাদিসের ভাষায়—মাহশার ও মানশারের ভূমি। ভৌগোলিক, রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়—সব দিক থেকেই শাম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। শেষ যামানার গুরুত্বপূর্ণ সব মালাহিম ও ফিতান, ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ—এসবেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শাম। ইসলাম-পূর্ব রোমান-বাইজেন্টাইন অ্যাম্পায়ার থেকে অদ্যাবধি—শামের গুরুত্ব সবসময়ই ছিল প্রাসঙ্গিক। যে-কারণে, প্রাচীন বাইজেন্টাইন থেকে বর্তমানের সুপারপাওয়ার ইউএসএ, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক—সকলেরই প্রচেষ্টা, শামে নিজেদের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
কেন শাম এত গুরুত্বপূর্ণ? হাদিসেই বা কেন এতবার এসেছে শামের কথা? কোন-কোন ফিতান ও মালাহিম শামে সংঘটিত হবে? যুগে-যুগে শামের ইতিহাস কী? কারা কারা শাসন করেছে শাম? বর্তমানেই বা কেন এত টানাপোড়েন শামকে নিয়ে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতেই AOI এর ইতিহাস কোর্স ০২ এর এই আয়োজন – শামের ইতিহাস, হাদিসের ভাষ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি।
ইন্সট্রাক্টর:
মাওলানা মাহমুদ সিদ্দিকী
সাবেক মুহাদ্দিস, জামিয়া মাদানিয়া খিলগাঁও, ঢাকা
লেখক ও সম্পাদক, পেনফিল্ড পাবলিকেশন