একটি ছোট অবুঝ শিশু বা একজন বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন যুবককে যখন পিতা কোনো কাজের আদেশ বা নিষেধ করে তখন তারা সেটা পছন্দ না করলেও অম্লানবদনে উক্ত আদেশ পালন করে। পিতামাতার প্রতি আনুগত্যের অনুভূতি তাদেরকে অবাধ্য হতে দেয়না। পিতাকে তারা পালটা প্রশ্ন করেনা। বরং পিতার আদেশ মানাতেই কল্যাণের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখে। কারণ তারা জানে, পিতা তাদের ভালোবাসেন তাই তিনি তাদের ক্ষতি হয় এমন কাজের আদেশ দিবেননা।কারণ, আদেশকৃত কাজের ফলাফল সম্পর্কে আদেশকৃত ব্যক্তির চেয়ে আদেশদাতাই অধিক অবগত থাকেন। পিতার আদেশের সত্যতা ও কল্যাণ সন্তান প্রথমে টের না পেলেও পরবর্তীতে টের পায়। এটাই হলো আল্লাহ তা’য়ালারই সৃষ্ট মানুষের দুটি প্রকারের (পিতা ও পুত্র) মধ্যকার বোধের তারতম্য। তাও সামান্য বয়সের পার্থক্যের কারণে। পিতার বয়স পুত্রের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে অভিজ্ঞতাও বেশি। পিতা যা দেখে এসেছেন এবং শুনে এসেছেন পুত্র তা দেখবে ও শুনবে পিতার বয়সে উপনীত হওয়ার পর। বয়সের এই তারতম্য পুত্রের মাঝে পিতার প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার জন্ম দেয়। তাই সে আদেশ পালনে দ্বিধাবোধ করেনা। সুতরাং যদি অল্প বয়সের তারতম্যের কারণে একটি সৃষ্ট জীবের দুটি প্রকারের বোধে এতটা পার্থক্য দেখা দেয় তবে মহান স্রষ্টা ও সৃষ্টির জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পরিমাণের পার্থক্য কতটা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়! স্রষ্টার সক্ষমতা, সামর্থ্য ও শক্তির সাথে সৃষ্টির পাল্লার পরিমাপ কতটা দুরূহ তা উপলব্ধি করা যায়!
আল্লাহ তায়ালা’র প্রায় সকল বিধান ও শরীয়তের অধিকাংশ হুকুমই মানব অভিরুচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বৈপরীত্য ও মতবিরোধ হাতেগোণা ক’টি ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। এই বৈপরীত্য পরম আনুগত্যপূর্ণ দাসত্বের মহিমা প্রকাশের জন্যই রাখা হয়েছে। দাসত্বের মহিমা সাধন হবে তখনই, যখন বান্দা তার রবের সমীপে নিজেকে পরিপূর্ণরূপে সঁপে দিবে। কোনো হুকুমের যুক্তি খুঁজে বেড়াবেনা। মহান প্রভুর পরিপূর্ণতার সম্মুখে মানবজাতির অপরিপূর্ণতা যেন ফুটে উঠার জন্যই এই অস্পষ্টতা রাখা হয়েছে।
কিন্তু লিবারেলিজম আমাদেরকে শেখায় প্রবৃত্তিপূজা। নিজের যা সঠিক মনে হয় তা করা। অথচ নিজের খেয়ালখুশি প্রতিষ্টা পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কুফরের প্রধাণ কারণ। কারণ, দৃষ্টিভঙ্গির ভারসাম্যহীনতা ও দুটি দৃষ্টিভঙ্গির মিশ্রণঃ যথা- দাসত্বব্যঞ্জক আত্মসমর্পণ ও বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সংমিশ্রণ আল্লাহ তা’য়ালার নিখাদ বন্দেগীতে বাঁধা দেয় এবং বিভিন্ন জ্ঞান জানার মধ্যকার পরিস্থিতিতে দোলাচল তৈরী করে দেয়। কারণ মস্তিষ্কের জানার পরিধি সীমাবদ্ধ। জ্ঞানের সমুদ্র মস্তিষ্ক সাঁতরে পার করতে পারে বটে কিন্তু জ্ঞান তো শুধু সমুদ্র নয় বরং অতল মহাসমুদ্র। যাতে রয়েছে ঢেউয়ের উপর ঢেউ। কখনোই তা পাড়ি দেয়া সম্ভব নয়। যে মানুষ দুই সমুদ্রের ফারাক বুঝতে পারবেনা সে অতল সমুদ্রে নিশ্চিত ভাবেই হারিয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। যদি কেউ বন্দেগীর স্বতঃসিদ্ধ পথ থেকে সরে যায় তবে সে ধীরে ধীরে বন্দেগীর নামে অনুমানপ্রসূত কুসংস্কারে জড়িয়ে পড়বে যা তাকে বিদআতের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি সরাসরি সরল পথের দিশা হারিয়ে বামপথে পা বাড়াবে সে ধীরে ধীরে নাস্তিক্যবাদে আসক্ত হবে। ধর্মত্যাগ করে একপর্যায়ে সরাসরি মুরতাদে পরিণত হবে।
প্রিয় ভাই বোনেরা, বর্তমানে যে চিন্তার পদস্খলন হচ্ছে আমাদের সমাজে তার সবটাই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের অনুভূতি থেকে। এই ফিকরি ইরতিদাদ থেকে বেঁচে আল্লাহর নিখাঁদ বন্দেগীতে নিজেকে সঁপে দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। একারণেই আমাদেরকে জানতে হবে লিবারেলিজম কী ও কেন?
তাই Ammar’s Online Institution – AOI দুই সিজনে এই কোর্সের আয়োজন করেছে। প্রথম সিজন হয়ে গেছে। সেই সিজনে আমরা ওয়েস্টার্ন আইডোলজিগুলো তুলে ধরেছি। তাদের দৃষ্টিকোণ থেকেই সেসবের অসারতা দেখিয়েছি। প্রথম সিজনের পর এই সিজনে আমরা ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে লিবারেলিজম আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ। ঈমান ও আমল রক্ষার্থে এই কোর্সে এনরোল করুন।
প্রথম সিজন না করেও এই সিজনে অংশ নেওয়া সম্ভব। তবে যারা প্রথম সিজন করেছেন, তাদের জন্য এটি আরও কার্যকর হবে। এই কোর্সে লিবারেলিজম, সেকুলারিজম ও আধুনিক মতবাদের ইসলামি বিশ্লেষণ শেখানো হবে এবং পশ্চিমা চিন্তার প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে ইসলামের আদর্শে ফিরে আসার পথ দেখানো হবে।
এই কোর্সটি শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের মানসিক ও চিন্তাশীল প্রস্তুতি। এটি শুধুমাত্র তাত্ত্বিক জ্ঞান দেয় না, বরং ব্যক্তির চিন্তা ও আচরণের মাধ্যমে ইসলামের নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনধারার শিক্ষা দেয়। কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবে কীভাবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সমকালীন সমাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায় এবং নিজেকে কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে পরিচালিত করা যায়। এভাবে কেবল জ্ঞানই নয়, বরং আত্মসমর্পণ ও প্রজ্ঞার অনুশীলনও নিশ্চিত হয়।
ইসলাম কেবল কতগুলো ধর্মীয় বিধি-বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামের সীমানা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক জীবন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনেও বিস্তৃত।
স্বত্ব © ২০২২ আম্মার’স অনলাইন ইন্সটিটিউশন কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত