কিছু দিন আগে আমার এক প্রিয় তালিবে ইলম দেখা করতে এসে বললো, হুযূর, আগামী পরশু আমার বিবাহ।
চমকে উঠে তাকালাম। বড় ‘বে-চারা’ মনে হলো। কারণ আমিও একদিন বড় অপ্রস্তুত অবস্থায় জেনেছিলাম, আগামীকাল আমার বিবাহ! ভিতর থেকে হামদরদি উথলে উঠলো। ইচ্ছে হলো তাকে কিছু বলি, যিন্দেগির এই নতুন রাস্তায় চলার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পাথেয়, আল্লাহর তাওফীকে তাকে দান করি। আল্লাহর তাওফীক ছাড়া আমরা কেই বা কী করতে পারি!
তো তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বিবাহের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছো? বড় ভোলাভালা নও জোয়ান! সরলভাবে বললো, আমার কিছু করতে হয়নি, সব প্রস্তুতি আববা -আম্মাই নিয়েছেন। কেনা-কাটা প্রায় হয়ে গেছে, শুধু বিয়ের শাড়ীটা বাকি।
অবাক হলাম না, তবে দুঃখিত হলাম, আমার এই প্রিয় তালিবে ইলম।এখন একজন যিম্মাদার আলিমে দ্বীন।দীর্ঘ কয়েক বছর আমাদের সুহবতে ছিলো, তার কাছে বিবাহের প্রস্তুতি মানে হলো জিনিসপত্র এবংবিয়ের শাড়ী! তাহলে অন্যদের অবস্থা কী!
বড় মায়া লাগলো। বললাম,
দেখো, মানুষ যে কোন কাজ করতে চায়, প্রথমে সে ঐ বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করে।কাজটির হাকীকত ও উদ্দেশ্য কী? কাজটি আঞ্জাম দেয়ার সঠিক পন্থা কী? শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী কী সমস্যা হতে পারে, সেগুলোর সমাধান কী? এগুলো জেনে নেয়।
উপরের কথাগুলো বাংলাদেশের একজন জীবন্ত কিংবদন্তি আলিম মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ হাফিজাহুল্লাহর। আল্লাহ হযরতের ছায়া আমাদের উপর দীর্ঘ করুন।
হুযুর যা বলেছেন তা কতটা সত্য তার নমুনা আমাদের আশেপাশে বিদ্যমান। আমাদের ছেলেরা, আমাদের মেয়েরা বিয়ের প্রস্তুতি বলতে কতটা কী বোঝে? হয়ত কতকটা অনুমান, কতকটা অন্যকে দেখে কল্পনা করে। কিন্তু বিয়ে নামক নৌকায় চড়ে সমুদ্রে ভাসতে নামলে কী আর জীবন চলে?
বিয়ে-আল্লাহর দেয়া একটা সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা। এই ব্যবস্থাপনায় সংযুক্ত সবাই একেকটা ভিন্ন ভিন্ন জগতে বসবাস করে। যে জগতে কারো সাথে কারো কোনো মিল নেই। প্রত্যেকেরই নিজের জগত নিজেকে গড়ে নিতে হয়। কিন্তু সেই জগত গড়ার নিয়ম কী? আল্লাহর দেয়া বিধান কী? দায়দায়িত্ব কী তা না জেনে নিলে বিপদ আছে বলাবাহুল্য।
একারণেই AOI- এর তরফ থেকে নতুন এই আয়োজন ★বিয়ে ও তালাক বিষয়ক কোর্স★
এখানে আমরা শেখাব একজন পুরুষ কবে স্বামী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে, একজন নারী কখন স্ত্রী হয়ে উঠতে পারবে। এসবের পাশাপাশি খুঁটিনাটি মাসআলা মাসায়িলের দীক্ষাও দেয়া হবে ইনশা আল্লাহ। আসুন বৈবাহিক দায়দায়িত্ব জেনে নিতে আমরা এই কোর্সে শরীক হই।
কোর্স পরবর্তী সময়ে অ্যাসাইনমেন্ট সাবমিশনের মাধ্যমে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
ইসলাম কেবল কতগুলো ধর্মীয় বিধি-বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামের সীমানা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক জীবন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনেও বিস্তৃত।
স্বত্ব © ২০২২ আম্মার’স অনলাইন ইন্সটিটিউশন কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত