একবার সিদ্দিকে আকবর ও ফারুকে আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার মধ্যে কিছু একটা নিয়ে মনোমালিন্য হয়। এনিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ফারুকে আজম রাগের মাথায় সিদ্দিকে আকবরকে কঠোর কথা বলে ফেলেন। সিদ্দিক কিছুই বললেন না। সেখান থেকে উঠে চলে গেলেন। ফারুকে আজমের মেজাজ কিছুক্ষন পর নরম হলেই তিনি বুঝতে পারলেন যে তার ভুল হয়ে গেছে। সাথে সাথে তিনি সিদ্দিকে আকবরের ঘরে গেলেন। কিন্তু তিনি সেখানে নেই। এবার উমর ভয় পেয়ে গেলেন। আবু বকর নিশ্চয় হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে চলে গেছেন। ভয়ে ভয়ে উমর চললেন নববীর পথে। যেতে যেতে তিনি মনে মনে তাওবা করে ঠিক করলেন আবু বকরের পাও যদি ধরতে হয় তবুও তিনি ক্ষমা চেয়ে নেবেন। গিয়ে দেখেন নবী আলাইহিস সালাম ও আবু বকর দুজনই মাথা নীচু করে বসে আছেন। উমর বুঝতে পারছেন না কী করবেন। একটু পর হুজুর মস্তক মুবারক তুললে উমর বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি মাফ চাইতেই গিয়েছিলাম। তিনি ঘরে ছিলেন না। আমার ভুল হয়ে গেছে।
তখন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছিলেন জানেন? বলেছিলেন:
إِنَّ اللَّهَ بَعَثَنِي إِلَيْكُمْ فَقُلْتُمْ كَذَبْتَ-وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ صَدَقَ-وَوَاسَانِي بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ-فَهَلْ أَنْتُمْ تَارِكُوا لِي صَاحِبِي؟
আল্লাহ আমাকে তোমাদের কাছে যখন পাঠালেন তখন তোমরা বললে: তুমি মিথ্যা বলছো। আর আবু বকর বললেন: তুমি সত্য বলছো। সে আমাকে তার জান-মাল দিয়ে সাহায্য করেছে। তোমরা কি আমার সাথীর (অর্থাৎ আবু বকরের) ব্যাপারে আমাকে ছেড়ে দিবে না? [অর্থাৎ তাকে কষ্ট না দিলে কি হয় না?]
সেদিনের পর থেকে কেউ আর কখনোই আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে কষ্ট দেয়নি। সাহাবায়ে আজমায়ীনের ভাতৃত্বের নজরানা দেখুন। আজ দুজনই পাশাপাশি রওযায়ে আত্বহারে শুয়ে আছেন। ছিদ্দিকে আকবরকে একটা কঠোর কথার কষ্টও নবী আলাইহিস সালাম নিতে পারেননি সেখানে আমরা কীভাবে আশা করতে পারি যে অনবরত সিদ্দিক ও উমরকে গালি দেয়া লোকদেরকে আপন করব? সাহাবীদের ব্যাপারে আমাদের আকীদা কী হবে তা নিয়ে কথা বলব না?
উস্তাদ আম্মারুল হক হাফিঃ
সাহাবীদের জীবনী এবং তাদের প্রতি সঠিক আকীদা শুধু জ্ঞান নয়, বরং তা আমাদের হৃদয়ে ঈমানের আলোকে উদ্ভাসিত করে। সাহাবীদের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের জীবন আদর্শকে আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করা, আমাদের জন্য পরকালে প্রাপ্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ।”সাহাবীদের ব্যাপারে আকীদা” কোর্সের মাধ্যমে সেই আলোকে হৃদয়ে ধারণ করার সুযোগ গ্রহণ করি।
সাহাবীদের প্রতি আমাদের আকীদা কতটা শক্তিশালী? আসুন, এই কোর্সে জানি সাহাবীদের প্রতি সঠিক বিশ্বাস এবং আকীদার গুরুত্ব। সাহাবিদের ব্যাপারে আমাদের আকিদা কী হবে জানতে এই রেকর্ডেড সেশনটি এনরোল করুন।
ইসলাম কেবল কতগুলো ধর্মীয় বিধি-বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামের সীমানা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক জীবন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনেও বিস্তৃত।
স্বত্ব © ২০২২ আম্মার’স অনলাইন ইন্সটিটিউশন কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত