ইলমে দ্বীনের প্রতিটি শাখার গুরুত্ব-মর্যাদা সেই ইলম আহরণের উদ্দেশ্য ও মানবজীবনে তার প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। এদিক থেকে ইলমে তাফসীর উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে অন্যান্য শারয়ী ইলমের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার স্থান লাভ করেছে। কেননা এই ইলমের আলোচ্যবিষয়, আল্লাহর কালাম। যা সর্বপ্রকার প্রজ্ঞার উৎস, মর্যাদার বাহন এবং মানবজাতির একমাত্র মৌলিক চাহিদা তথা সামগ্রিক সুখ-শান্তি এরই মধ্যে নিহিত। পাশাপাশি কুরআনুল কারীম শরীয়তের অন্যান্য শাখার মূল উৎস হওয়ার কারণেও সেসব জানার জন্য তাফসীরের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাফসীরের জ্ঞানলাভের ফলে মানুষ কুরআনুল কারীমে প্রদত্ত আল্লাহর মানহাজ তথা আল্লাহর পথ ও পদ্ধতি এবং তার বিপরীতে শয়তানের মানহাজ সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে পারে। ফলত, মানহাজে ইলাহী অবলম্বন করে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে এবং শয়তানের মানহাজ থেকে বেঁচে থেকে পার্থিবজীবনের অসংকীর্ণতা-ফিতনা-ফাসাদ এড়িয়ে যেতে পারে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,
فَمَنۡ تَبِعَ هُدَایَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡهِمۡ وَ لَا هُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ
‘আর যে ব্যক্তি আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট ও হতভাগ্য হবেনা।
আরো ইরশাদ করেন,
وَ مَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡ ذِکۡرِیۡ فَاِنَّ لَهٗ مَعِیۡشَۃً ضَنۡکًا وَّ نَحۡشُرُهٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ اَعۡمٰی
আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবে তার জন্য সাব্যস্ত হবে সংকীর্ণ জীবন
আর তাকে আমি ক্বিয়ামতের দিন একত্রিত করব অন্ধ অবস্থায়।’
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিঃ বলেন,
সেই সত্তার শপথ করে বলছি যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, কুরআনের কোন আয়াত কোথায় এবং কার ব্যাপারে নাযিল হয়েছে আমি তা জানি। যদি আমি এমন কারো সম্পর্কে জানতাম যিনি আমার চেয়েও বেশী কোরান সম্পর্কে জানেন এবং তার কাছে যাওয়া সম্ভব তবে আমি তার কাছে গিয়ে তা জেনে নিতাম।
ইবনু আব্দিল বার রহঃ বলেন,
সর্বপ্রথম ইলম হলো আল্লাহর কিতাব মুখস্ত করে অনুধাবন করা। যেসকল ইলম কুরআন অনুধাবন করার ক্ষেত্রে সহায়ক সেসব ইলম তলব করাও আবশ্যকীয়।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেন,
আল্লাহ তায়ালা আমাকে কোরানের অর্থ এবং অন্যান্য ইলম অর্জনের সমূহ সুযোগ দান করেছেন যা বেশিরভাগ আলিম অর্জনের আশা করে থাকে। আর আমি কোরান ব্যতীত অন্যান্য ইলমের পেছনে আমার অধিক সময় ব্যয় করায় অনুশোচনা করেছি। ‘
শায়খ ইবনে উসাইমিন রহঃ তার উসুলুত তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে,
‘ইলমের সবচেয়ে উত্তম শাখা হলো ইলমুত তাফসীর। কেননা এটি আল্লাহর কালামের অর্থ ব্যাখ্যা করে। ‘
সুতরাং সালাফদের বাণীর সারনির্যাস হলো, বিষয় বস্তুর মর্যাদার কারণে ইলমের গুরুত্ব বাড়ে। আর ইলমুত তাফসীরের বিষয় বস্তু হলো আল্লাহর কালাম। একারণেই কুরআনুল কারীমের তাফসীরের প্রতি বেশি গুরুত্বারোপ করা উচিৎ। কিন্তু সাধারণত তাফসীর দীর্ঘমেয়াদী বিষয় হওয়ায় অনেকের কাছেই শুরু এবং শেষ করা কষ্টসাধ্য। তাই Ammar’s Online Institution- AOI থেকে আয়োজন করা হয়েছে সূরাভিত্তিক তাফসীর কোর্স। যা একঘেয়েও হবে না আবার খুব স্বল্পও হবে না।
ইসলাম কেবল কতগুলো ধর্মীয় বিধি-বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামের সীমানা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক জীবন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনেও বিস্তৃত।
স্বত্ব © ২০২২ আম্মার’স অনলাইন ইন্সটিটিউশন কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত